রোজা অবস্থায় হস্তমৈথুন করলে রোজা নষ্ট হয় কি না, তা নিয়ে ইসলামী শরীয়তের দলিলসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১. কুরআন থেকে দলিল:
﴿وَيَذَرُونَ طَعَامَهُمْ وَشَهْوَتَهُمْ مِنْ أَجْلِي﴾
"তারা আমার সন্তুষ্টির জন্য তাদের খাদ্য ও যৌন চাহিদা ত্যাগ করে।"
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৪)
🔹 এই হাদিসের ভিত্তিতে ইসলামি পণ্ডিতগণ বলেন, রোজা অবস্থায় খাবার, পানীয় এবং যৌন চাহিদা (শহওয়াত) থেকে বিরত থাকা ফরজ। হস্তমৈথুনও যৌন চাহিদা পূরণের একটি মাধ্যম হওয়ায় এটি করলে রোজা ভেঙে যায়।
২. হাদিস থেকে দলিল:
(ক) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
الصِّيَامُ جُنَّةٌ
"রোজা হলো (পাপ থেকে রক্ষার) ঢাল।" (সহিহ বুখারি: ১৮৯৪, সহিহ মুসলিম: ১১৫১)
🔹 অর্থাৎ, রোজা মানুষের প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের একটি উপায়। কিন্তু হস্তমৈথুন প্রবৃত্তির অনুসরণের একটি কাজ, যা রোজার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
(খ) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
"যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সেই অনুযায়ী কাজ করা বন্ধ করবে না, তবে আল্লাহর কাছে তার খাবার ও পানীয় পরিত্যাগের কোনো মূল্য নেই।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৩)
🔹 এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রোজার উদ্দেশ্য কেবল খাবার-পানীয় থেকে বিরত থাকা নয়, বরং যাবতীয় পাপ থেকেও দূরে থাকা জরুরি।
৩. ফিকহ পরিভাষায় ব্যাখ্যা ও ইজমা:
🔹 চার মাজহাবের (হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি, হাম্বলি) অধিকাংশ উলামা একমত যে, রোজা অবস্থায় যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তমৈথুন করে এবং বীর্যপাত হয়, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং তাকে ওই দিনের রোজার কাজা (বদলি) রাখতে হবে।
🔹 ইমাম নববী (রহ.) বলেন:
"যদি রোজাদার হস্তমৈথুনের কারণে বীর্যপাত করে, তাহলে তার রোজা বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে কাজা আদায় করতে হবে।" (আল-মাজমু', ৬/৩৪৪)
🔹 ইবনে কুদামা (রহ.) বলেন:
"যদি কেউ রোজা অবস্থায় বীর্যপাত ঘটায়, তাহলে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে, যেহেতু এটি সহবাসের পরিবর্তিত একটি মাধ্যম।" (আল-মুগনি, ৩/১২৬)
ফলাফল:
- হস্তমৈথুন করলে রোজা নষ্ট হয়ে যায় এবং কাজা রাখা ফরজ হয়।
- তবে কফফারা (৬০ দিন একটানা রোজা বা ৬০ জন দরিদ্রকে খাওয়ানো) দিতে হবে না, কারণ এটি সহবাসের মতো গুরুতর অপরাধ নয়।
- এটি ইসলামি নৈতিকতার পরিপন্থী এবং রোজার উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে, তাই এ থেকে বিরত থাকা জরুরি।
উপদেশ:
যদি কেউ এই ভুল করে ফেলেন, তবে তাৎক্ষণিক তওবা করা উচিত এবং পরবর্তী সময়ে সেই দিনের রোজার কাজা আদায় করা আবশ্যক।